সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেলফ রুক্বিয়া

 রুক্বইয়্যাহ ওয়ার্ল্ড (Ruqyah World)-এর ফ্রী সেলফ রুক্বইয়্যাহ সাজেশন


➖➖➖➖🔸🔸➖➖➖➖

প্রস্তুতি :
— উযু করে নিন।
— নিরিবিলি জায়গা। (যদি সম্ভব হয়)
— অন্তর খাঁটি করে নিন।
— বিশ্বাস রাখুন, সুস্থতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তার কাছে থেকেই সুস্থতা আসে। তিনি যখন চাইবেন তখনই সুস্থ হবো।

উপকরণ সমূহ :
— খাঁটি মধু : ২৫০ গ্রাম
— খাঁটি কালোজিরার তেল : ১০০ মিলি
— কালোজিরার দানা : ২০ গ্রাম
— অলিভ অয়েল (স্পেন/ইতালি কাঁচের বোতলের) ৫০/৬০/১০০ মিলি
— সোনাপাতার গুড়া - ২০ গ্রাম
— ১ জগ বা ২ লিটার খাবার পানি
— ৭ টি তাজা সবুজ রঙের বরই পাতা


প্রথমে সূরাহ ফাতিহা ও দরূদে ইবরহীম ১ বার পড়ুন। এরপর—

সূরাহ ফাতিহাহ ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبّ الْعَالَمِينَ....
প্রতিবার পড়ে ফুঁ দিন।

সূরাহ বাক্বারাহ (১-৫) ১বার
الم، ذلك الكتب لا ريب فيه......

আয়াতুল কুরসী (সূরাহ বাক্বারা, ২:২৫৫) ১বার
اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ...

সূরাহ বাক্বারাহ (২:২৮৫-৮৬)
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ.....

সূরাহ আল-আ'রাফ, ১১৭–১১৯ (১ বার)
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ...

সূরাহ ইউনুস, ৮১–৮২ (১ বার)
إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۥۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ...

সূরাহ ত্বহা, ৬৮–৬৯ (১ বার)
وَلَا يَفْلَحُ ٱلسَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ.....

সূরাহ ইখলাছ (৩ বার); সূরাহ ফালাক্ব (৩ বার); সূরাহ নাস (৩ বার)

হাদীছি দু‘আ : (আবুদাউদ, হা/৩৮৯৩) (১ বার)
اللهم رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
“আল্লহুম্মা রব্বান নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আংতাশ শাফী, লা শিফা ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউুগাদিরু সাক্বামা।”

ফুঁ দেওয়ার নিয়ম :
উপরোক্ত সূরাহ, আয়াত ও দু‘আ সমূহ একটু করে পড়ুন (মনে-মনে বা হালকা সাউন্ডে, যেন নিজে শুনতে পারেন) এবং উপকরণ (তেল, পানি) সমূহে ফুঁ দিন।

নোট :
— ৭ টি বরই পাতা বেটে/পিছে মিহি করে ২ লিটার পানির মধ্যে মিশাতে হবে। এই পানি শুধু গোসল ও স্প্রে/ছিটানোর জন্য।
— ২ লিটারের খাবার পানি নিতে হবে। এটা শুধু পান করার জন্য।
— উল্লেখ্য! ২ লিটারের বোতল না থাকলে বাসার জগ বা মগ হলেও হবে।

আমল সমূহ :
— ঠিক সময়ে ফরয নামায আদায় করা।
— সুন্নাত ও নফল নামাযকে গুরুত্ব দেওয়া।
— শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের আদায় করা। এসময় কান্নাকাটি করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, কাকুতি-মিনতি করে নিজের সমস্যার কথাগুলো বলে দু’হাত তুলে দু‘আ করা।

— বেশি-বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা। দিন-রাতে ৫-৬ হাজার বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া অথবা প্রতি ফরয নামাযের পর ১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা।
— সকাল-সন্ধ্যার যিকির-আযকার, দু‘আ-কালাম পরিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ করা।

— ফরয নামাযের পর পঠিতব্য দু‘আ ও যিকিরগুলো সমূহ পাঠ করা।
— সপ্তাহে ২-৩ দিন সাধ্যমত দান-সদকা করা বা গরীব ও অসহায়দের খাবার খাওয়ানো।
— সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোযা রাখা।
— মেয়েদের পর্দা পরিপূর্ণভাবে করা।

— কবীরা গুনাহ বা পাপ থেকে দূরে থাকা।
— ঘর থেকে ছবিমূর্তি, টিভি, গানবাজনা দূরে রাখা।
— তিনদিনে সূরাহ বাক্বারাহ খতম করা।
— দিনে দুইবার ১৫-২০ মিনিট সূরাহ বাক্বারাহ ১০২, আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, ত্বহা ৬৯ নং, সূরাহ সাফফাত ১-১০ আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করা।

— কোনোকিছুতে কখনোই গাফিলতি না করা। আশা ও সাহস রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া।

রুক্বইয়্যাহ সাপ্লিমেন্টারী :

— হাফ গ্লাস পানি পান করা। দিনে ২ বার
— বরই পাতার পানি থেকে এক গ্লাস পানি গোসলের পানির মধ্যে মিশিয়ে গোসল করা। (যখনই গোসল করা হবে তখনই মিশাবে, শীতকালে গরম পানি মিশানো যাবে)

— নিজেদের রুম, বেলকুনি বা বারান্দায় বরই পাতার পানি ছিটানো এবং বাথরুম/টয়লেটে এক গ্লাস পানি ফেলানো। দিনে ২ বার/সকাল-সন্ধ্যা। প্রথম একটানা ৭ দিন
— গোসলের পরে অলিভ অয়েল পুরো শরীরে হালকাভাবে মালিশ করা।

— এক চিমটি কালোজিরার দানার সাথে এক চামুচ মধু মিশিয়ে খাওয়া। দিনে ২ বার।
— প্রতিদিন সকালে খালিপেটে এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি সোনাপাতার গুড়া মিশিয়ে পান করা। প্রথম একটানা ৭ দিন।
— কালোজিরার তেল যেখানে ব্যথা ও মাংস লাফায়, সেখানে হালকাভাবে মালিশ করা। দিনে ২ বার

উপরের সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে-মিশিয়ে মাসের পর মাস ব্যবহার করা যাবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :
— মেয়েদের পিরিয়ড/মাসিকের সময় তেল-পানি সবকিছু ব্যবহার এবং আমল ও দু‘আ সবকিছু চালিয়ে যেতে হবে।
— এসময় শুধু নামায পড়া বন্ধ থাকবে।
— মাসিক অবস্থায় মোবাইল বা কম্পিউটারে কুরআন স্পর্শ করে পড়া যাবে।

— সরাসরি মুসহাফ কুরআন হলে স্পর্শ করে পড়া যাবে না তবে হাত মোযা পরিধান করে পড়া যাবে।
— এছাড়া মাসনূন, সকাল-সন্ধ্যা ও রুক্বইয়্যাহর দু‘আ ও যিকির পড়া যাবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

তাবিযের আক্বিকাত

 তাবিযের আক্বিকাত  তাবীযের রুগীরা তাবীযমুক্ত হতে পারে না কেন? . “তাবীযের চিকিৎসায় শয়তান দূর হয় না; বরং তাবীযের শিরকে খুশি হয়ে সামান্য ছাড় দেয় মাত্র। আপনি জ্বিনের রুগীদের গলায় কোমরে সর্বদা তাবীয ঝুলানো দেখবেন। দেখবেন সেগুলো বারবার নবায়ন করতেও। মরণ পর্যন্ত যদি তাবীয ঝুলাতে হয়, ক্ষণে ক্ষণে তা নবায়নও করতে হয়, তাহলে এটা কি চিকিৎসা, না আযাব? এই আযাবি চিকিৎসার সারমর্ম হলো, ঈমান হারিয়ে সামান্য সুবিধা। সাথে মানসিক অশান্তি, শারীরিক ভোগান্তি ও খরচে খরচে পকেটের ক্লান্তি। সুস্থতা ও অসুস্থতার দোলাচলে ভোগা একরাশ হতাশা। সাথে জ্বিনের থেকে মুক্তি অসম্ভব-এর অবাস্তব অনুভূতি।” — একটি বই থেকে সংগৃহীত