সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?”

সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন,

"চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।”

(সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০)

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন,

-“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?”
(তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।)

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (মা’রিফাতু উলূমুল হাদিস, পৃঃ ২)

শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (৪৯১-৫৬১ হিঃ) বলেন,

‘অতঃপর ফির্কা নাজিয়া হ’ল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত। সেটি হ’ল ‘আহলুল হাদীছ’।
তিনি আরও বলেন, বিদ’আতীদের লক্ষণ হল আহলে হাদীসদের গালি দেওয়া ও বিভিন্ন বাজে নামে তাদেরকে সম্বোধন করা ।(আব্দুল ক্বাদির জীলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে গুনিয়াতুত ত্বালেবীন (মিসর: ১৩৪৬ হিঃ) ১/৯০ পৃঃ)

ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন,

“মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ‘আহলে হাদীস’-এর মর্যাদা অনুরূপ, যেমন সকল জাতির মধ্যে মুসলমানদের মর্যাদা।” (মিনহাজুস সুন্নাহ (বৈরূতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ২/১৭৯ পৃঃ)

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৩১/ কলহ ও বিপর্যয় (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ২১৯২


২৭. সিরিয়াবাসীদের প্রসঙ্গে

২১৯২। মুআবিয়া ইবনু কুররা (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  যখন সিরিয়াবাসীরা খারাপ হয়ে যাবে তখন তোমাদের আর কোন কল্যাণ থাকবে না। তবে আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দল সকল সময়েই সাহায্যপ্রাপ্ত (বিজয়ী) থাকবে। যেসব লোকেরা তাদেরকে অপমানিত করতে চায় তারা কিয়ামাত পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।

সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬)।

মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন, সাহায্যপ্রাপ্ত (বিজয়ী) সেই সম্প্রদায়টি হলো হাদীস বিশারদদের জামাআত (আহলুল হাদীস)।

আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালা, ইবনু উমার, যাইদ ইবনু সাবিত ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আহমাদ ইবনু মানী’-ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে তিনি বাহয ইবনু হাকীম হতে তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে তিনি (বাহযের দাদা) বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল  আপনি আমাকে কোথায় থাকতে নির্দেশ দেন? তিনি বললেন এখানে আর হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করলেন।

বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (উপরোক্ত হাদীসের বক্তব্য শুনে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমাকে কোন জায়গায় বসবাসের জন্য আপনি নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ  এই দিকে। তিনি এই কথা বলে হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইশারা করেন।

সহীহ, ফাযাইলুশশাম হাদীস নং ১৩।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৩১/ কলহ ও বিপর্যয় (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ২১৯২


باب مَا جَاءَ فِي الشَّامِ حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا فَسَدَ أَهْلُ الشَّامِ فَلاَ خَيْرَ فِيكُمْ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوَالَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ تَأْمُرُنِي قَالَ ‏"‏ هَا هُنَا ‏"‏ ‏.‏ وَنَحَا بِيَدِهِ نَحْوَ الشَّامِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
আহলে হাদীস কারা?
– শাইখ রাবী বিন হাদী উমাইর আল মাদখালী:
————————————-
অধুনা মুসলিম বিশ্বের একজন সফল শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা অনুষদের আস সুন্নাহ বিভাগের প্রধান ড. রাবী বিন হাদী উমাইর আল মাদখালী। তিনি তার প্রসিদ্ধ পুস্তিকা মাকানাতু আহলিল হাদীস-এ এ প্রশ্ন রাখছেন, আহলুল হাদীস কারা? এবং পরপরই নিজে জবাব দিচ্ছেন, যার অর্থ হচ্ছে-‘আহলে হাদীসতারা:
যারা আল কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ এবং এ দুটির একনিষ্ঠ ও নিরবচ্ছিন্ন অনুসরণে এবং আকায়েদ ও ইবাদত, ব্যবহার বিধি ও চারিত্রিক আচার আচরণ, সমাজ ব্যবস্থা ও শাসনবিধি যাই হোক না কেন সকল ক্ষেত্রে সকল কথা ও সকল পথনির্দেশের চাইতে আল-কুরআন ও সহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহকে প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার দিয়ে সাহাবা ও তাবেঈনদের পথ ধরে চলে।
যারা আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি যা অবর্তীণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি যেসব প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছেন দীনের সেই মৌল নীতি এবং তার শাখা প্রশাখায় দৃঢ়পদ ও সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং যারা (মুক্তি ও সাফল্যের) এই পথে লোকদের আহ্বান জ্ঞাপনে সতত প্রস্তুত, সচেষ্ট ও সংকল্পবদ্ধ, যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রেখে যাওয়া ইলমের ধারক ও বাহক, যারা বাড়াবাড়ি কারী চরমপন্থিদের কুরআন ও হাদীসের ভাষা ও ভাবগত অর্থের পরিবর্তন প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয় এবং বাহিল পন্থীদের নব নব সংযোজন ও জাহিলদের ভুল ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে।
আহলে হাদীস তো তারাই যারা সর্বকালে ও সর্ব দেশে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সর্তক দৃষ্টি রাখে সেই সব ফিরকার প্রতি যারা ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছ যেমন জাহমিয়া, মুতাযিলা, খারেজী, রাফেযী, মুরজিঈ, কাদারী এবং প্রত্যেক সেই দল যারা আল্লাহর প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে চলেছে আল্লাহর রাহে কর্তব্য পালনে কোন নিন্দুকের নিন্দা তাদেরকে প্রভাবিত করে না।
তারাই হচ্ছে সেই দল যাদের প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করেছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এ অমর বাণীতে:
“আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটি দলের অস্তিত্ব চিরকাল বিদ্যমান থাকবে যারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং যারাই তাদের বিরুদ্ধাচরণ বা তাদেরকে বিড়ম্বিত ও লাঞ্ছিত করতে তৎপর হোক না কেন প্রলয়কাল পর্যন্ত তাদের কোন অনিষ্টই করতে পারবে না।” (সহীহ মুসলিম ৩/১৫২৩)
তারাই তো সফলকাম মুক্তি প্রাপ্তদের দল যারা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে সেই মত ও পথের উপর যে মত ও পথের উপর কায়েম ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীবৃন্দ, যাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং চিহ্নিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে “এই উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্তি হবে আর সাবই জাহান্নামে শুধু একটি মাত্র দল ব্যতিরেকে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোনটি সেই ভাগ্যবান দল? তিনি বললেন, সেই দল যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে সেই মত ও পথের যাতে আমি এবং আমার সাহাবা কায়েম রয়েছি।” (তিরমিযী, ৪/৪২০, ইবনে মাজাহ ১/৪-৫)

‘বড় পীর’ বলে খ্যাত শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (৪৯১-৫৬১ হিঃ) বলেন,

وَأَمَّا الْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ فَهِيَ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ قَالَ: وَأَهْلُ السُّنَّةِ لاَ إِسْمٌ لَهُمْ إِلاَّ إِسْمٌ وَّاحِدٌ وَّهُوَ أَصْحَابُ الْحَدِيْثِ–

‘অতঃপর ফির্কা নাজিয়া হ’ল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত। সেটি হ’ল ‘আহলুল হাদীছ’।
. আব্দুল ক্বাদির জীলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে গুনিয়াতুত ত্বালেবীন (মিসর: ১৩৪৬ হিঃ) ১/৯০ পৃঃ। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, أَهْلُ الْحَدِيْثِ فِي كُلِّ زَمَانٍ كَالسَّحَابَةِ فِي زَمَانِهِمْ প্রত্যেক যামানায় আহলেহাদীছগণ হলেন সেই যামানার জন্য মেঘ সদৃশ।’ তিনি বলতেন, إِذَا رَأَيْتُ صَاحِبَ حَدِيْثٍ فَكَأَنِّيْ رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘আমি যখন কোন আহলুল হাদীছকে দেখি, তখন যেন আমি রাসূল (ছাঃ)-এর কোন ছাহাবীকে দেখি’।
কিতাবুল মীযান ১/৬৫-৬৬

 ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, أَهْلُ الْحَدِيْثِ فِىْ أَهْلِ الْإِسْلاَمِ كَأَهْلِ الْإِسْلاَمِ فِىْ أَهْلِ الْمِلَلِ ‘মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আহলেহাদীছের মর্যাদা অনুরূপ, যেমন সকল জাতির মধ্যে মুসলমানদের মর্যাদা’।

[. মিনহাজুস সুন্নাহ (বৈরূতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ২/১৭৯ পৃঃ।
আহলে হাদীসদের একটা আমল বা আক্বীদা নাই যা ৪ মাযহাবের বাহিরে।
 তারা ৪ ইমামকে শ্রদ্ধা করে,সকল ফিকহী মাসআলায় তাদের রাজেহ মাসআালাকে মেনে নেয় ও তাতে আমল করে। তারাও তাকলীদ করে তবে তা তাকলীদে শাখসী নয়,তাকলীদে মুতলাক।
সালাফদের যাদের অনেকের মাজহাবী পরিচয় পাওয়া যায় তবে নিজেকে নিজে মাযহাবী পরিচিত করেননি, পরবর্তী প্রজন্ম পরিচিত করিয়েছেন। তারা নিজ দায়িত্বে মতামত দিয়েছেন।হতে পারে কোন কোন মতামতটি কোন না কোন মযহাবের সাথে মিলে গেছে অথবা কাছাকাছি হয়েছে এবং সেভাবেই পরিচিতি পেয়েছেন। দলিলের ভিত্তিতে নিজ মাযহাবের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন ।আহলে হাদীসরা তাদের এই মানহাজে বিশ্বাসী।চার মাযহাবের বাহিরে তারা ভিন্ন কোন আমলের পদ্ধতি আবিস্কার করেনি।মহামতি ইমামগন মুসলিমদের মাথার তাজ,তবে ভুলের উর্ধে নিশ্চয়ই নন।তাই আগলুল হাদীস রা দলিলের ভিত্তিতে মহামতি ইমামদের রাজেহ মাসআলার অনুসরণ করে।
আহলে হাদিস সম্পরকে যুগের শ্রেষ্ট তিনজন আলিমের বক্তব্য। আহলে হাদিস নতুন কোনো দল নয়, এটি পুরাতন একটি গুন বা বইশিষ্টের নামঃ শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যুঃ ৫৬১ হিঃ) “নাজী” ফের্কা হিসাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের বর্ণনা দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিদআ’তীদের ক্রোধ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “বিদআ’তীদের লক্ষণ হচ্ছে ‘আহলে হাদীসদের’ গালি দেওয়া এবং তাদেরকে বিভিন্ন ‘খারাপ নামে’ সম্বোধন করা। এগুলি সুন্নাতপন্থীদের বিরুদ্ধে তাদের দলীয় বিদ্বেষ ও অন্তঃর্জ্বালার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের অন্য কোন নাম নেই, একটি নাম ছাড়া। আর সেটি হচ্ছে “আসহাবুল হাদীছ” বা আহলে হাদীস।” [গুনিয়া-তুত্তালিবিনঃ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯০] জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহঃ) সুরাহ বানী ইসরাঈল এর ৭১ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে "আহলুল হাদীসদের জন্য এর চেয়ে বড় শ্রেষ্ঠতার আর কিছু নাই কারণ আল্লার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত আহলুল হাদীসদের আর কোন ইমাম নেই।" [তাদরীবুর রাওয়ি: ২/১২৬, নূ':২৭] কুরআনের সূরাহ বানী ইসরাঈল এর ৭১ নং আয়াতের “যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহবান করব” - অংশের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, “পূর্ব যুগীয় কোন কোন মনীষীর উক্তি রয়েছে যে, এতে আহলুল হাদীসদের খুবই বড় মর্যাদা রয়েছে। কেননা, ...

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...