সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রুগ মুক্তির মহা ঔষধ

 আপনি কি অসুস্থ? রোগে ভুগছেন? সমস্যা যেটাই হোক না কেন, মাত্র এক সপ্তাহের প্রাকৃতিক চিকিৎসায় যে কোনো জটিল রোগ থেকে মুক্তিলাভের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব! মনে রাখবেন- চিকিৎসা মাফিয়ারা (তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে) যে রোগকে যত জটিল বলে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, তার তত সহজ প্রাকৃতিক সমাধান রয়েছে। আপনি যে রোগেই আক্রান্ত হন না কেন, রোগমুক্ত হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় নিম্নরূপ :-


ঘরে বসে নিজ দায়িত্বে চিকিৎসা শুরুর প্রথম তিনদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর হালকা কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস, ভিনেগার আর যৎসামান্য প্রাকৃতিক মধু মিশিয়ে পান করতে থাকুন। সারাদিনের মধ্যে মাত্র এক-দু’বার এক গ্লাস বিভিন্ন সবুজ পাতার (তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, লেটুসপাতা, ধনেপাতা ইত্যাদি ব্লেন্ড করে) রস পান করতে পারেন। এর বাইরে অন্য কোনোকিছু ছুঁয়েও দেখবেন না। বিশেষ এই পানীয় অবশ্যই মাটির সমতলে বসে (দুই হাতে গ্লাস ধরে) কুলি করতে করতে কমপক্ষে তিন বা ততধিক শ্বাসে (ঢোকে) পান করবেন।


প্রথম তিনদিনের জলচিকিৎসার জন্য জমজম কূপের পানি যোগাড় করতে পারলে খুব ভালো হয়। ‌ নিদেনপক্ষে পাহাড়ি ঝর্ণার পানি যোগাড় করবেন এবং সেই পানি কাঁসা বা মাটির কলসে সংরক্ষণ করবেন।


চতুর্থ দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে এক গ্লাস পানি পান করার পর খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে এসে প্রাকৃতিক জীবন্ত খাবারের রংধনু (সাত রঙের) নাস্তা খেতে পারেন। অথবা আপনার ওজন যত কেজি, তত গ্রাম দেশীয় মৌসুমি ফল খেয়ে পেট ভরুন। তবে টক আর মিষ্টি ফল একসঙ্গে খাওয়া যাবে না।


বেলা ১১টার দিকে তোকমা দানা, চিয়া বীজ, তিষি, ইসুবগুলের ভুষি অগ্রিম ভিজিয়ে রেখে এক গ্লাস খেতে পারেন। অথবা এক গ্লাস পাকা চালকুমড়া/কচি লাউয়ের রস (সঙ্গে একটা আমলকি) পান করতে পারেন।


দুপুরে বাতাবি লেবু অথবা কাঁচা বাঁধাকপি/পেঁপে কুচি করে কেটে আদা-রসুন-পেঁয়াজ-কাঁচা হলুদ-সন্ধক/বিট লবণ-মরিচ-কাসুন্দি মাখিয়ে খাবেন। ফাঁকে ফাঁকে দিনভর লেবুর পানি (দিনে একবার মধুসহ) পান চলবে।


বিকেলে গরম মসলা ফুটিয়ে (অথবা গুঁড়ো মিশিয়ে) এক কাপ আদা/কালোজিরার চা পান করবেন।


সূর্যাস্তের আগে অল্প পরিমাণে খেজুর/কলা/কুল (বড়ই)/ডালিম (আনার)/ত্বীন/জলপাই/আঙুর (যে কোনো একটি বা দু’টি ফল) খাবেন।


প্রতিবেলায় খাবার খাওয়ার পর অন্তত ৪০ কদম হাঁটাহাঁটি করবেন।


প্রতিদিন নিমপাতা সিদ্ধ করা পানিতে পা চুবিয়ে ৪০ মিনিট বসে থাকবেন আর খালি পায়ে কাদামাটির ওপরে হাঁটবেন অথবা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন।


চতুর্থ দিন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এক কাপ সাজনা পাতা, কালোজিরা ও হলুদ মিশ্রিত চা অথবা গ্রিন/রোজেলা টি পান করতে পারেন। অথবা এক বাটি বিটের স্যুপ আদা-রসুন-গোলমরিচ সহকারে খাবেন।


শাকসবজি ও ফলমূলগুলো অবশ্যই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আবাদকৃত (রাসায়নিক সার ও কীটনাশক-মুক্ত) হতে হবে। বাজার থেকে কেনা জিনিসের বিশ্বাস নাই!


চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত একই নিয়মের পুনরাবৃত্তি চলবে। এ সময় আগুনের স্পর্শযুক্ত (রান্না করা) সর্বপ্রকার খাদ্যগ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবেন।


যাদের মুঠোভরে ড্রাগস সেবনের বদাভ্যাস এবং একদিন ড্রাগস সেবন না করলে মনে হয় কিছুই খাইনি, তাঁরা সান্ত্বনাস্বরূপ এক কৌটা spirulina ক্যাপসুল কিনে প্রতিদিন ২+২+২ নিয়মে খেতে পারেন!


কোনো অবস্থাতেই রাত জাগবেন না। এশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে যাবেন এবং তাহাজ্জুদের সময় বিছানা ছাড়বেন। ফজরের নামাজের পর হাঁটাহাঁটি করবেন (সম্ভব হলে দৌড়াবেন বা সাইকেল চালাবেন) এবং গায়ে সূর্যের নরম আলো লাগাবেন। নিমগাছের নিচে/পাশে বসে খানিকক্ষণ প্রাণায়াম/দমচর্চা/ইয়োগা করতে পারেন।


গোসল করবেন স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে। এর বাইরে সময় কাটাবেন মূলত মাতৃভাষায় ধর্মগ্রন্থ ও মনীষীদের জীবনী পাঠ করে (প্রাণখুলে হাসার জন্য হাস্য-কৌতুকের বইও পড়তে পারেন)। প্রাকৃতিক চিকিৎসার পুরো সময়টুকু সামাজিক গণমাধ্যম অথবা টেলিভিশন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন।


সপ্তাহব্যাপী প্রাকৃতিক চিকিৎসা চলাকালে এক থেকে দুইবার whole body oil message therapy অথবা আকুপ্রেশার থেরাপি নিতে পারেন। এছাড়া একবার হিজমা করালে উপকারের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাবে। অপেক্ষাকৃত জটিল রোগীদেরকে প্রতিদিন এনিমা করতে হবে।


উপরোক্ত দাওয়ার পাশাপাশি সুস্থতার বিশেষ নিয়তে দান করবেন (প্রতিদিন তিনজন অভুক্তকে খাওয়াতে পারেন) এবং প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায়ের সময় দুই রাকাত অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করে (দীর্ঘ সেজদায়) মহান আল্লাহতালার কাছে রোগমুক্তির প্রার্থনা করবেন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকেও আপনার সুস্থতা কামনা করে দোয়া করতে বলবেন। দোয়া ছাড়া অন্য কোনোকিছু আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না!


এক সপ্তাহের প্রাকৃতিক চিকিৎসা শেষ করার পর আপনার যেখানে মন চায় টেস্ট করিয়ে দেখতে পারেন। আপনার রোগ যেটাই হোক না কেন, জটিলতার মাত্রা কমতে শুরু করবে এবং শারীরিক পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি দেখে আপনি নিজেই চমকে উঠবেন!

-----রাজিব আহমেদ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...