সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জমির দলিল পড়ার নিয়ম

 🥰 সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে 🥰

পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১৩০টি শব্দের অর্থের তালিকা

খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:


পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত অনেক শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। কিছু শব্দ খুব কম ব্যবহৃত হয়। যারা পুরাতন দলিলের শব্দের অর্থ বোঝেন না, তাদের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো —


১) মৌজা: গ্রাম

২) জে.এল. নং: মৌজা নম্বর/গ্রামের নম্বর

৩) ফর্দ: দলিলের পাতা

৪) খং: খতিয়ান

৫) সাবেক: আগের/পূর্বের

৬) হাল: বর্তমান

৭) বং: বাহক (যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লেখেন)

৮) নিং: নিরক্ষর

৯) গং: অন্যান্য অংশীদার

১০) সাং: সাকিন/গ্রাম

১১) তঞ্চকতা: প্রতারণা

১২) সনাক্তকারী: বিক্রেতাকে চিনেন এমন ব্যক্তি

১৩) এজমালি: যৌথ

১৪) মুসাবিদা: দলিল লেখক

১৫) পর্চা: প্রাথমিক খতিয়ানের নকল

১৬) বাস্তু: বসতভিটা

১৭) বাটোয়ারা: সম্পত্তির বণ্টন

১৮) বায়া: বিক্রেতা

১৯) মং: মোট

২০) মবলক: মোট পরিমাণ

২১) এওয়াজ: সমমূল্যের বিনিময়

২২) হিস্যা: অংশ

২৩) একুনে: যোগফল

২৪) জরিপ: ভূমি পরিমাপ

২৫) চৌহদ্দি: সীমানা

২৬) সিট: মানচিত্রের অংশ

২৭) দাখিলা: খাজনার রশিদ

২৮) নক্সা: মানচিত্র

২৯) পিং: পিতা

৩০) জং: স্বামী

৩১) দাগ নং: জমির নম্বর

৩২) স্বজ্ঞানে: নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে

৩৩) সমুদয়: সব কিছু

৩৪) ইয়াদিকৃত: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু

৩৫) পত্র মিদং: পত্রের মাধ্যমে

৩৬) বিং: বিস্তারিত

৩৭) দং: দখলকারী

৩৮) পত্তন: সাময়িক বন্দোবস্ত

৩৯) বদলসূত্র: জমি বিনিময়

৪০) মৌকুফ: মাফকৃত

৪১) দিশারী রেখা: দিকনির্দেশক রেখা

৪২) হেবা বিল এওয়াজ: বিনিময়সূত্রে জমি দান

৪৩) বাটা দাগ: বিভক্ত দাগ

৪৪) অধুনা: বর্তমান

৪৫) রোক: নগদ অর্থ

৪৬) ভায়া: বিক্রেতার পূর্বের দলিল

৪৭) দানসূত্র: দানকৃত সম্পত্তি

৪৮) দাখিল-খারিজ: মালিকানা পরিবর্তন

৪৯) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ

৫০) খারিজ: পৃথক খাজনা অনুমোদন

৫১) খতিয়ান: ভূমির রেকর্ড

৫২) এওয়াজসূত্র: বিনিময় সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি

৫৩) অছিয়তনামা: উইল/মৃত্যুকালীন নির্দেশ

৫৪) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তরের রেকর্ড

৫৫) অধীনস্থ স্বত্ব: নিম্নস্তরের মালিকানা

৫৬) আলামত: মানচিত্রে চিহ্ন

৫৭) আমলনামা: দখলের দলিল

৫৮) আসলি: মূল ভূমি

৫৯) আধি: ফসলের অর্ধেক ভাগ

৬০) ইজারা: নির্দিষ্ট খাজনায় সাময়িক বন্দোবস্ত

৬১) ইন্তেহার: ঘোষণাপত্র

৬২) এস্টেট: জমিদারি সম্পত্তি

৬৩) ওয়াকফ: ধর্মীয় কাজে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি

৬৪) কিত্তা: ভূমিখণ্ড

৬৫) কিস্তোয়ার জরিপ: কিত্তা ধরে ভূমি পরিমাপ

৬৬) কায়েম স্বত্ব: চিরস্থায়ী মালিকানা

৬৭) কবুলিয়ত: স্বীকারোক্তি দলিল

৬৮) কান্দা: উচ্চভূমি

৬৯) কিসমত: ভূমির অংশ

৭০) খামার: নিজস্ব দখলীয় ভূমি

৭১) খিরাজ: খাজনা

৭২) খসড়া: প্রাথমিক রেকর্ড

৭৩) গর বন্দোবস্তি: বন্দোবস্তবিহীন জমি

৭৪) গির্ব: বন্ধক

৭৫) জবরদখল: জোরপূর্বক দখল

৭৬) জোত: প্রজাস্বত্ব

৭৭) টেক: নদীর পলি জমে সৃষ্টি ভূমি

৭৮) ঢোল সহরত: ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা

৭৯) তহশিল: রাজস্ব এলাকা

৮০) তামাদি: নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত

৮১) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ

৮২) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তর

৮৩) নথি: রেকর্ড

৮৪) দেবোত্তর: দেবতার নামে উৎসর্গকৃত

৮৫) দখলী স্বত্ব: দখলের ভিত্তিতে মালিকানা

৮৬) দশসালা বন্দোবস্ত: দশ বছরের বন্দোবস্ত

৮৭) দাগ নম্বর: জমির ক্রমিক নম্বর

৮৮) দরবস্ত: সব কিছু

৮৯) দিঘলি: নির্দিষ্ট খাজনা প্রদানকারী

৯০) নক্সা ভাওড়ন: পূর্ব জরিপের মানচিত্র

৯১) নাম খারিজ: পৃথককরণ

৯২) তুদাবন্দি: সীমানা নির্ধারণ

৯৩) তরমিম: সংশোধন

৯৪) তৌজি: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রেকর্ড

৯৫) দিয়ারা: নদীর পলিতে গঠিত চর

৯৬) ট্রাভার্স: জরিপের রেখা পরিমাপ

৯৭) খাইখন্দক: জলাশয় বা গর্তযুক্ত ভূমি

৯৮) চর: নদীর পলি জমে গঠিত ভূমি

৯৯) চৌহদ্দি: সম্পত্তির সীমানা

১০০) খাস: সরকারি মালিকানাধীন জমি


শেষ কথা:

এই শব্দগুলো পুরাতন দলিল পড়ার সময় আপনাকে দারুণ সহায়তা করবে। সেভ করে রেখে দিন — প্রয়োজনে অমূল্য হয়ে উঠবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...