সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সংক্ষিপ্ত রুক্বইয়্যাহ গাইড

 ▌রুক্বইয়্যাহ সিরিজ : পর্ব-০১


.

.

বিষয় : সংক্ষিপ্ত রুক্বইয়্যাহ গাইড!

প্রস্তুতি :
• উযু করে নিন।
• নিরিবিলি জায়গা।
• অন্তর খাঁটি করে নিন।
• বিশ্বাস রাখুন, শিফা একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে।

রুক্বইয়্যাহর আয়াত ও দু‘আ :

(১) সূরাহ ফাতিহাহ (৭ বার)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ...
প্রতিবার পড়ে ফুঁ দিন। এটি সম্পূর্ণ সূরাটি ৭ বার।

(২) আয়াতুল কুরসী (সূরাহ বাক্বারা ২:২৫৫)
اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ...
১–৩ বার পড়া উত্তম।

(৩) সূরাহ ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস।
- সূরাহ ইখলাছ (৩ বার)
- সূরাহ ফালাক্ব (৩ বার) 
- সূরাহ নাস (৩ বার) 
প্রতিটি সূরাহ পড়ে নিজের উপর ফুঁ দিন বা হাত দিয়ে মাথা-মুখে বুলিয়ে দিন।

(৪) যাদু নষ্টের আয়াতসমূহ :

সূরাহ আল-আ'রাফ, ১১৭–১১৯
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ...

সূরাহ ইউনুস, ৮১–৮২
إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۥۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ...
সূরাহ ত্বহা, ৬৮–৬৯
وَلَا يَفْلَحُ ٱلسَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ
প্রত্যেক আয়াত ৩ বার করে পড়া যেতে পারে।

(৫) দু‘আ : বদনযর ও ব্যথা নিরাময়ের জন্য

নবীজী (ﷺ)-এর দু‘আ (আবুদাউদ, হা/৩৮৯৩)
اللهم رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
দিনে অন্তত ৩ বার পড়া এবং রাতে ঘুমের আগে।

ব্যবহার পদ্ধতি (ফুঁ দেয়া পানি/তেল) :

(১) উপরোক্ত আয়াত ও দু‘আ গুলো নিজে নিজে জোরে জোরে পড়ে ফুঁ দিন পানির বোতলে (১.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি)।
(২) ঐ পানি দিনে ২-৩ বার খান।
(৩) কিছু পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।
(৪) অলিভ অয়েল বা কালোজিরার তেলেও ফুঁ দিয়ে গায়ে মালিশ করতে পারেন।

সতর্কতা :

- তাবীয, ঝাড়ফুঁক, পীরের পানি/ছবির উপর ভরসা করবেন না।
- মহিলা রুগী হলে পুরুষ রাক্বী শার‘ঈ পর্দা রক্ষা করে কাজ করবে।
- কোনো আয়াতের মানে না জানলে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।

সংকলন : সালাহউদ্দীন আহমেদ শাহিন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সেলফ রুক্বিয়া

 রুক্বইয়্যাহ ওয়ার্ল্ড (Ruqyah World)-এর ফ্রী সেলফ রুক্বইয়্যাহ সাজেশন ➖➖➖➖🔸🔸➖➖➖➖ প্রস্তুতি : — উযু করে নিন। — নিরিবিলি জায়গা। (যদি সম্ভব হয়) — অন্তর খাঁটি করে নিন। — বিশ্বাস রাখুন, সুস্থতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তার কাছে থেকেই সুস্থতা আসে। তিনি যখন চাইবেন তখনই সুস্থ হবো। উপকরণ সমূহ : — খাঁটি মধু : ২৫০ গ্রাম — খাঁটি কালোজিরার তেল : ১০০ মিলি — কালোজিরার দানা : ২০ গ্রাম — অলিভ অয়েল (স্পেন/ইতালি কাঁচের বোতলের) ৫০/৬০/১০০ মিলি — সোনাপাতার গুড়া - ২০ গ্রাম — ১ জগ বা ২ লিটার খাবার পানি — ৭ টি তাজা সবুজ রঙের বরই পাতা প্রথমে সূরাহ ফাতিহা ও দরূদে ইবরহীম ১ বার পড়ুন। এরপর— সূরাহ ফাতিহাহ ৭ বার بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبّ الْعَالَمِينَ.... প্রতিবার পড়ে ফুঁ দিন। সূরাহ বাক্বারাহ (১-৫) ১বার الم، ذلك الكتب لا ريب فيه...... আয়াতুল কুরসী (সূরাহ বাক্বারা, ২:২৫৫) ১বার اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ... সূরাহ বাক্বারাহ (২:২৮৫-৮৬) ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ..... সূরাহ আল-আ'রাফ, ১১৭–১১৯ (১...

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

তাবিযের আক্বিকাত

 তাবিযের আক্বিকাত  তাবীযের রুগীরা তাবীযমুক্ত হতে পারে না কেন? . “তাবীযের চিকিৎসায় শয়তান দূর হয় না; বরং তাবীযের শিরকে খুশি হয়ে সামান্য ছাড় দেয় মাত্র। আপনি জ্বিনের রুগীদের গলায় কোমরে সর্বদা তাবীয ঝুলানো দেখবেন। দেখবেন সেগুলো বারবার নবায়ন করতেও। মরণ পর্যন্ত যদি তাবীয ঝুলাতে হয়, ক্ষণে ক্ষণে তা নবায়নও করতে হয়, তাহলে এটা কি চিকিৎসা, না আযাব? এই আযাবি চিকিৎসার সারমর্ম হলো, ঈমান হারিয়ে সামান্য সুবিধা। সাথে মানসিক অশান্তি, শারীরিক ভোগান্তি ও খরচে খরচে পকেটের ক্লান্তি। সুস্থতা ও অসুস্থতার দোলাচলে ভোগা একরাশ হতাশা। সাথে জ্বিনের থেকে মুক্তি অসম্ভব-এর অবাস্তব অনুভূতি।” — একটি বই থেকে সংগৃহীত