সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জীবনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন

জীবনের আনন্দ খুবই ক্ষণস্থায়ী এবং প্রায়ই তার পরে দুঃখ নেমে আসে। জীবনের অর্থই হলো দায়িত্ব, সতত পরিবর্তনশীল যাত্রা ও দুঃখ-কষ্টের অবিরাম নির্মম প্রচণ্ড আক্রমণ ।

আপনি এমন একজন পিতা, স্ত্রী বা বন্ধু পাবেন না যিনি সমস্যামুক্ত। আল্লাহ তা'আলা চেয়েছেন যে, এ পৃথিবীর দুটি করে বিপরীত জিনিস দিয়ে ভরপুর থাক। যেমন- ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ। অতঃপর ভালোত্ব, সততা-সরলতা ও সুখ স্বর্গের (জান্নাতের) জন্য; মন্দকাজ, দুর্নীতি ও পাপকাজ এবং দুঃখ-দুর্দশা নরকের (জাহান্নামের) জন্য।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا ذِكْرُ اللَّهِ وَمَا وَالَاهُ وَعَالِماً و مُتَعَلِّماً

“আল্লাহর জিকির ও জিকিরের ফলে যা আসে (যেমন ভালো কাজ, আল্লাহ যা ভালোবাসেন) তা এবং আলেম ও তালেবে এলম ছাড়া গোটা দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত।"

এক নিখুঁত, আদর্শ, দুশ্চিন্তা ও কষ্টহীন কল্পিত ইহজীবনের (কল্পিত ইহকালীন স্বৰ্গরাজ্যের) আশায় বৃথা ও কষ্ট কল্পনায় সর্বদা বিভোর না থেকে আপনার যা আছে তাই নিয়েই জীবন-যাপন করুন। জীবনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন এবং তদানুপাতে সকল পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে (মানিয়ে) নিন। (সকল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার অর্থ সকল মতাদর্শ মেনে নেয়া ও তদানুসারে কাজ করা নয়; বরং, নিজে শান্তির ধর্ম মেনে চলা ও অন্যকে তদানুসারে চলতে বলা, যদি তারা না মানে তবে অহেতুক মর্মযাতনাবোধ না করা। -অনুবাদক) নিন। এ দুনিয়াতে আপনি নিষ্কলঙ্ক সঙ্গী ও নিখুঁত পরিস্থিতি বলে কোন জিনিস পাবেন না; কেননা, নিষ্কলঙ্কতা ও নিখুঁত অবস্থা এমন দুটি গুণের নাম যা এ জীবনে পরদেশী।

নিজেদেরকে সংশোধন করা, সহজটাকে গ্রহণ করা, কঠিনটাকে বর্জন করা এবং প্রায়ই অন্যের ভুল-ভ্রান্তিকে উপেক্ষা করা আমাদের জন্য জরুরি।


এ কথা কয়টি একটু ভেবে দেখুন

বিষন্ন হবেন না; কেননা, বিষন্নতা আপনাকে অতীত নিয়ে আক্ষেপ করতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি বা সন্দেহ করতে এবং আপনার বর্তমানকে নষ্ট করে দিতে বাধ্য করবে।

দুঃখিত হবেন না; কেননা, এটি হৃদয়কে সংকুচিত করে, মুখমণ্ডলকে কুচকিয়ে দেয়, মনোবলকে দুর্বল করে দেয় এবং আশা ভরসাকে দূর করে দেয়।

মনঃক্ষুন্ন হবেন না; কেননা, আপনার মনঃক্ষুন্নতা আপনার শক্রকে আনন্দিত করে, আপনার বন্ধুদেরকে ক্রুদ্ধ করে এবং হিংসুকদেরকে স্ফূর্তি করায়। মনঃক্ষুন্ন হবেন না; কেননা, মনঃক্ষুন্ন হয়ে আপনি স্বর্গীয় বিধান বা তকদীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন এবং আপনার ভাগ্যলিপির বিরুদ্ধে বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

ভগ্নহৃদয় বা মনমরা হবেন না; কেননা, মনমরা ভাব যা হারিয়ে গেছে বা চলে গেছে তা আপনাকে এনে দিতে পারবে না, এটা মৃতকে পুনর্জীবন দান করতে পারবে না, ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না অথবা কোনো উপকারই করতে পারবে না।

ব্যথিত বা ভাঙামন হবেন না; কেননা, মৰ্মবেদনা প্রায়ই শয়তানের (ধোকা) থেকে (উৎপন্ন) হয় এবং তা এক ধরনের হতাশা।

“(হে মুহাম্মাদ!), আমি কি তোমার জন্য তোমার মনকে প্রশস্ত করে দেইনি? এবং যা তোমার পিঠকে ভেঙে দিয়েছে আমি তোমা থেকে তোমার সে ভার অপসারণ করেছি এবং আমি তোমার স্মরণ বা খ্যাতিকে সমুচ্চ করেছি। অতএব, কষ্টের পরেই আরাম আছে। নিশ্চয় কষ্টের পরেই স্বস্তি আছে। অতএব, যখনই অবসর পাও তখনই (আল্লাহর) ইবাদত করিও এবং তোমার প্রভুর দিকে প্রার্থনার জন্য মনোনিবেশ করিও।” (৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ: আয়াত-১-৮)


সদাচার

সদাচার সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়, পক্ষান্তরে, কদাচার দুঃখ-দুর্দশার পথে নিয়ে যায়। একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “সদাচরণের মাধ্যমে ঐ লোকের মর্যাদা লাভ করা যায় যে নাকি দিনভর নফল রোযা রাখে ও রাতভর নফল সালাত পড়ে।” তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন- “আমি কি তোমাদেরকে সে লোকের কথা বলব না যে নাকি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে? তারা হলো, তোমাদের মাঝে যাদের আচরণ সর্বোত্তম।”

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ

এবং নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ!) মহান চরিত্রের অধিকারী।” (৬৮-সূরা আল কালাম: আয়াত ৪(

“তখন আপনি (হে মুহাম্মদ!) আল্লাহর রহমতে তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; আর যদি আপনি কর্কশ-কঠোরাত্মা হতেন তবে তারা আপনার পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যেত।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৫৯)

“আর তোমরা মানুষের সাথে ভালো কথা বল।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-৮৩)

আয়েশা (রাঃ) নবী করীমর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র সম্বন্ধে বলেছেন- “তার চরিত্র ছিল কুরআনেরই জীবন্ত বা বাস্তব রূপ।”


একজন জ্ঞানী লোক বলেছিলেন যে ' সুখের মূলকাটি কি তা আমি জানি না,কিন্তু সকলকে খুশি করা তা কষ্টের কারন।   

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সেলফ রুক্বিয়া

 রুক্বইয়্যাহ ওয়ার্ল্ড (Ruqyah World)-এর ফ্রী সেলফ রুক্বইয়্যাহ সাজেশন ➖➖➖➖🔸🔸➖➖➖➖ প্রস্তুতি : — উযু করে নিন। — নিরিবিলি জায়গা। (যদি সম্ভব হয়) — অন্তর খাঁটি করে নিন। — বিশ্বাস রাখুন, সুস্থতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তার কাছে থেকেই সুস্থতা আসে। তিনি যখন চাইবেন তখনই সুস্থ হবো। উপকরণ সমূহ : — খাঁটি মধু : ২৫০ গ্রাম — খাঁটি কালোজিরার তেল : ১০০ মিলি — কালোজিরার দানা : ২০ গ্রাম — অলিভ অয়েল (স্পেন/ইতালি কাঁচের বোতলের) ৫০/৬০/১০০ মিলি — সোনাপাতার গুড়া - ২০ গ্রাম — ১ জগ বা ২ লিটার খাবার পানি — ৭ টি তাজা সবুজ রঙের বরই পাতা প্রথমে সূরাহ ফাতিহা ও দরূদে ইবরহীম ১ বার পড়ুন। এরপর— সূরাহ ফাতিহাহ ৭ বার بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبّ الْعَالَمِينَ.... প্রতিবার পড়ে ফুঁ দিন। সূরাহ বাক্বারাহ (১-৫) ১বার الم، ذلك الكتب لا ريب فيه...... আয়াতুল কুরসী (সূরাহ বাক্বারা, ২:২৫৫) ১বার اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ... সূরাহ বাক্বারাহ (২:২৮৫-৮৬) ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ..... সূরাহ আল-আ'রাফ, ১১৭–১১৯ (১...

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...