সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাদিস অস্বীকারকারী কাফের

হাদিস অস্বীকারকারী কাফের
__________________________

ইমাম আহমদ রহ. বর্ণিত
হাদীসে এসেছে, যা মুহাদ্দিস আবদুর
রাযযাক বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাকে
মা‘মার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি
হামাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন, এ হাদিসটি আমাদেরকে আবু
হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা
করেছেন, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“আমার দৃষ্টান্ত ও তোমাদের দৃষ্টান্ত এমন
এক ব্যক্তির মত, যে আগুন জ্বালালো,
তারপর যখন আগুনের আশ-পাশ আলোকিত হল,তখন কীট-পতঙ্গ, পোকা-মাকড় যেগুলো
আগুনের মধ্যে ঝাপ দেয়, তাতে তারা
পড়তে আরম্ভ করল। আর লোকটি তাদের
বাধা দিল, কিন্তু তারা তাকে পরাভূত
করে তাতেই ঝাঁপ দিচ্ছিল। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
আমার দৃষ্টান্ত এ লোকটির মতই; আমি
তোমাদের কোমর ধরে তোমাদের আগুন
থেকে দূরে সরাচ্ছি, বলতে থাকছি, আগুন!
আগুন! তা থেকে দূরে থাক, কিন্তু তোমরা
আমাকে পরাভূত করে তাতেই ঝাঁপ দিচ্ছ।
(বুখারি, রিকাক অধ্যায়, হাদিস: ৬১১৮,
মুসলিম, ফাযায়েল অধ্যায়, হাদিস: ২২৪৪,
তিরমিযী, আমসাল অধ্যায়, হাদিস: ২৮৭৪,
আহমদ, হাদিস: ৩১২/২)

বুখারি ও মুসলিম হাদিসটিকে
মুহাদ্দিস আব্দুর রাযযাক কর্তৃক বর্ণিত
হাদিস হিসেবে সংকলন করেন।’
• আল্লামা সুয়ুতী রহ. তার ‘মিফতাহুল
জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস্সূন্নাহ’
কিতাবে লেখেন-
তোমরা জেনে রাখ! -আল্লাহ
তোমাদের প্রতি দয়া করুন- যে ব্যক্তি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের হাদিস -চাই তা তার কথা
হোক বা কর্ম হোক- দলীল হওয়াকে
অস্বীকার করল, সে কুফরি করল, সে
ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেল।
তার হাশর ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে
হবে অথবা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কোনো
কাফের দলের সাথে হবে।’
সুন্নতের গুরুত্ব, সুন্নতের উপর আমল করা
বাধ্যতামূলক হওয়া এবং সুন্নতের
বিরোধিতা করা থেকে সাবধানতা
অবলম্বন করার বিষয়ে সাহাবী, তাবে‘ঈ ও
তাদের পরবর্তী আহলে ইলম থেকে অসংখ্য
বাণী বর্ণিত রহয়েছে।  আমরা আল্লাহর কাছে
আমাদের জন্য এবং সমস্ত মুসলিমদের জন্য
কামনা করি এমন সব আমলের তাওফীক যা
তাঁকে খুশি করে আর নিরাপত্তা কামনা
করি তার বিক্ষুব্ধ হওয়া কারণসমূহ হতে। আর
আল্লাহ কাছে আমাদের কামনা তিনি যেন
আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত
দেন। নিশ্চয় তিনি শ্রবণকারী ও
নিকটবর্তী।
আল-কোরআনে এরশাদ হয়েছে,
অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের
মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপন কর
আল্লাহ ও রাসূলের নিকট (সূরা আন-নিসা: ৫৯)
আরো এরশাদ হয়েছে,
“অতএব যারা তার নির্দেশের
বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন তাদের ওপর
বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক
আযাব পৌছার ভয় করে”(সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩)
>আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আল্লাহ আপনার উপর কিতাব (আল-কুরআন)
ও হিকমাহ নাযিল করেছেন।” [সূরা
নিসা:১১৩]
অধিকাংশ আলেম হিকমাহর তাফসির
করেছেন সুন্নাহ বলে। আল্লাহ তা‘আলা
তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে নির্দেশ
দিয়েছেন।
আল্লাহ তা ‘আলা বলেছেন:
“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
আনুগত্য কর।” [সূরা নিসা: ৫৯]
আর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ
দেওয়ায় তাঁর সুন্নাহ শরীয়তের দলিল হওয়া
ও সে অনুযায়ী আমল করা অত্যাবশ্যকীয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
নাফরমানি করবে, তার জন্য রয়েছে
জাহান্নাম, যেখানে সে চিরদিন অবস্থান
করবে।” [সূরা জীন: ২৩]
রাসূলের অবাধ্যতা করলে তার জন্য
শাস্তির বিধান সাব্যস্ত থাকায় প্রমাণিত
হলো যে, সুন্নাহ অবশ্যই আল-কুরআনের মতই
হুজ্জত (দলিল)।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর
যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা
থেকে বিরত হও।” [সূরা হাশর: ৭]
যদিও এটা ফাই (যুদ্ধ ব্যতীত অর্জিত)
সম্পদের বণ্টনের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ফাই এর মাল ইজতিহাদ করে বণ্টন
করেছেন, তথাপিও আমাদেরকে এ বিধান
গ্রহণ করা ওয়াজিব, আর শরীয়তের
আহকামের ক্ষেত্রে তো আরো বেশী
অগ্রগণ্য।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
“অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে
রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা
আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং
আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” [সূরা আল-
আহযাব: ২১]
রাসূলের অনুকরণ ও অনুসরণ বলতে বুঝায়
দালালাতুল কুরআন (কুরআনের নস) মুতাবেক
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যে সব কাজ করেছেন ও তিনি নিজে যা
সুন্নত করেছেন সে সব কাজ করা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...