সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রশ্নঃ অহংকার না🌈 থাকলে টাখনুর নীচে কাপড় পরা যাবে কি?

1⃣ *প্রশ্নঃ অহংকার না🌈 থাকলে টাখনুর নীচে কাপড় পরা যাবে কি?*

*উত্তর ঃ* আপনি বলতে পারেন *কিছু ইমাম সাহেব ও টাখনুর নীচে কাপড় পরেন।আরে ভাই, ইমাম সাহেব কোন দলিল নয়, দলিল হল কুরান ও হাদিসের পৃষ্ঠায়, পৃষ্ঠায়।* কিয়ামতের ময়দানে কেউ কারো ভার বহন করবে না। অসতর্কতাবশত পায়ের নিচে কাপড় গেলে সমস্যা নেই।
*আপনি তো মানুষকে দেখানোর জন্য/মানুষকে খুশী করার জন্য পায়ের নিচে কাপড় পরেন,আল্লাহকে খুশী না করে মানুষকে দেখাচ্ছেন খুশী করছেন, এটা তো আপনার গোঁয়ারতুমি ও দেখাওয়া স্বভাব। তাহলে এটা তো অটোমেটিকেলি অহংকারের শামিল হয়ে যাচ্ছে, প্রমাণ নিম্নে হাদিসে। আর মুমিন গোঁয়ার বা রিয়া রাখে না।*
*অহংকার না করে পরলে ও শাস্তি হবেই,আর অহংকার করে দেখাওয়া/রিয়া নিয়ে পরলে শাস্তি আরো বেশী হবেই।* আল্লাহ মাফ করলে ভিন্ন কথা।

🔥নবী (স) বলেছেনঃ *ইযারের (প্যান্টের) যে পরিমান টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে।*বুখারী ৫৩৭১।

🔥... একবার নবী(স) আমার পায়ের গোছা অথবা (রাবীর সন্দেহ) পায়ের নলার গোশত ধরে বললেন, এ-ই হলো লুঙ্গি পরিধানের নিম্নতম স্থান। তুমি যদি এটাতে তৃপ্তিবোধ না কর তাহলে সামান্য নিচে নামাতে পার। এতেও যদি তুমি তৃপ্তিবোধ না কর, তাহলে *জেনে রেখো, লুঙ্গি টাখনুর নিচে পরিধান করার কোন অধিকার তোমার নেই।* (তিরমিজী)

 🔥.. নবী (স) বলেনঃ ভালো কাজে অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত। তোমার কাপড় পায়ের নলার মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠিয়ে রাখো, যদি এতে সন্তুষ্ট না হও তবে টাখনু পর্যন্ত রাখো। *টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা থেকে সাবধান; কারণ তা করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না।*
(আবূ দাউদ ৪০৮৪)
⬆ভাই,দেখলেন, প্রমাণ,এম্নিতেই তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত⬆

🔥 Nabi (s)said: *'Abdullah, tug up your lower garment,, I tugged it up, and he again said: Tug it still further, and I tugged it still further and I went on tugging it afterward, whereupon some of the people said: To what extent? Thereupon he said: To the middle of the shanks.*
 Muslim 2086

2⃣ *প্রশ্নঃ*অহংকার ভরে টাখনুর নীচে কাপড় পরলে কি শাস্তি বেশী?

*উত্তরঃ*
🔥 *যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ ঐ লোকের সাথে কথা বলবেন না, তার প্রতি (রহমতের নজরে) দেখবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না, আর🔥 কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। এরা তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।*
(আবু দাউদ, মুসলিম,)

🔥 নাবী (স) বলেছেন, *এক ব্যাক্তি গর্ব ও অহংকারের সহিত লুঙ্গী টাখ্‌নোর নিচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল। এমতাবস্থায় তাকে যমিনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হল এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে এমনি অবস্থায় নীচের দিকেই যেতে থাকবে।*
 বুখারী ৩২৩৯

3⃣ *নামাজের সময় প্যান্ট/কাপড় উপরে নীচে টানাটানি করা  মাকরুহ কি?*
উত্তর ঃ হ্যাঁ মাকরুহ।
....... সাত (অঙ্গ)-এর উপর সিজদা করতে আদেশ করা হয়েছে এবং চুল ও *কাপড় গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে।*মুসলিম ৯৮১

4⃣  টাখনুর উপরে কাপড় পরা  কি শুধু নামাজের সময়ের জন্য?
*উত্তরঃ* না, সব সময় টাখনুর উপরে কাপড় পরতে হবে। এবং তা আবশ্যিক।

❌ *অতএব,আজই মৃত্যুর আগে লম্বা প্যান্ট কেটে ফেলুন, হয়ত সুজোগ না ও পেতে পারেন।*🌈

*“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর*-[সূরা বাকারা: ২০৮]

*আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমত ভয় কর*

*অহংকার হচ্ছে* 👇

১. সত্যকে গ্রহণ না করা; অন্যায়ভাবে বিতর্ক করা। যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিসে উল্লেখ । *“অহংকার হচ্ছে- সত্যকে উপেক্ষা করা* এবং মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।”

*যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।* একলোক বলল: ? তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর; তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। *অহংকার হচ্ছে – সত্যকে উপেক্ষা করা* এবং মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা।” [ *সহিহ মুসলিম*]

*সত্যকে উপেক্ষার অর্থ: সত্য জেনেও সেটাকে প্রত্যাখ্যান করা।*

২. নিজের সৌন্দর্য্য, দামী পোশাক ও দামী খাবার ইত্যাদি দ্বারা অভিভূত হয়ে পড়া এবং মানুষের উপর দাম্ভিকতা ও অহংকার প্রকাশ করা।

যে কোন লোক পছন্দ করে তার জামাটা ভাল হোক, তার জুতাটা ভাল হোক, সেটা ঠিক আছে। তবে তা যেন শরীয়তের আদেশের পরপন্থী না হয়, অর্থাৎ অপচয়, আঁটসাট,ট্রান্সপারেন্ট,নাভি/কোমর/টাখনু থেকে কাপড় নেমে যাওয়া ইত্যাদির পরিপন্থী যেন না হয়।

“.... *পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর* এবং কণ্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” [ সূরা লোকমান, আয়াত: ১৭-১৮]

আমরা আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে *অহংকার, গোয়াঁরতুমি ও সত্যকে গ্রহণ না করা থেকে মুক্তি দেন*এবং আমাদেরকে বিনয় দান করেন।

❌ *অতএব,আজই মৃত্যুর আগে লম্বা প্যান্ট কেটে ফেলুন, হয়ত সুজোগ না ও পেতে পারেন।*🌈

আল্লাহই ভাল জানেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...