সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অবিবাহিত ভাই ও বোনদের জন্য উপদেশ

*_وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته..!_*
জী সম্মানিত ভাই! অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রসঙ্গ উত্থাপনের জন্য আপনাকে حزاك الله خيرا..!
        আসলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এরকম সমস্যায় কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসা হয় পরিণতি পাবার পর। ততদিনে ভুক্তভোগী সর্বস্ব খুইয়ে পড়েন। এখানে আমরা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধকেই প্রাধান্য দেব *إن شاء الله..*
         বিষয়টি নিয়ে খারাপ ধারণা না করার জন্য সকলের প্রতি আবেদন রাখছি। এটি বিশেষ করে সদ্য যৌবন প্রাপ্ত ভাই-বোনেদের মানসিক ও শারিরীক ভাবে সুস্থ থাকতে জানার প্রয়োজন। অনেকেই আছেন যারা এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে হস্তমৈথুন করেন; যার ফলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ থেকে মুক্তি পেতে লজ্জা না করে প্রয়োজন আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
হস্তমৈথুন এমন একটি বদ অভ্যাস যা একবার কাউকে পেয়ে বসলে ত্যাগ করা খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। শুধু তাই না, এক সময় এই কু-অভ্যাসটিই অনেকের যৌনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। হস্তমৈথুনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি *মানসিক ও শারীরিক* দুই ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
– পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যেসব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল নপুংসকতা *(Impotence)।* অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়।
– অকাল বীর্যপাত *(Premature Ejaculation)* অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে যায়।
– *Temporary Oligospermia:-* বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন *বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটিরও কম।* যার ফলে *Male infertility* দেখা দেয়। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পুরুষ সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হন। একজন পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করেন তখন তার থেকে যে বীর্য বের হয় সে *বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত।*
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে *কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয় না।*

হস্তমৈথুনের কারণে পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ-বালাইয়ের আতুরঘর হয়ে যায়। যেমন,
– *Leakage of semen.* অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া।
– শারীরিক ব্যথা এবং মাথা ঘোরা।
– যৌন ক্রিয়ার সাথে জড়িত স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হওয়া অথবা ঠিক মত কাজ না করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া।
– শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন: হজম প্রক্রিয়া এবং প্রস্রাব প্রক্রিয়ায় *(Urinary tract system)* সমস্যা সৃষ্টি করে।
– কানে কম শোনা দৃষ্টি ঝাপসা এবং স্মরণশক্তি কমে যাওয়া।

🌈 বাঁচার উপায় -পরামর্শঃ-
*(যদি হস্তমৈথুন থেকে সত্যি সত্যি মুক্তি পেতে চান তাহলে)*
👉 কোন কোন সময় হস্তমৈথুন বেশি করেন, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন।
গোসল করার সময় এমন ইচ্ছে জাগলে শুধু ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং দ্রুত গোসল ছেড়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসুন।
👉 যতটা সম্ভব নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন।
👉 অশ্লীল ছবি (পর্ণমুভি) এড়িয়ে চলুন। কম্পিউটার লিভিং রুমে নিয়ে নিন যাতে অন্যরাও দেখতে পায় আপনি কী করছেন।
👉 যেসব ব্যাপার আপনাকে হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত করে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।
 👉 ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে *ব্রাউজারের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল-এ গিয়ে এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক করে দিন।*
👉 উপুর হয়ে শোওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
👉 বিকেলের পরে উত্তেজক ও গুরুপাক খাবার খাবেন না।
👉 কোন কারণে লিঙ্গ উত্তেজিত হলে হাত দ্বারা স্পর্শ করবেন না।
👉 নামাযের পর সুরা তওবার শেষ দুই আয়াত পাঠ করুন।
👉 সর্বদা আল্লাহর প্রতি ভয় রাখবেন।
👉 যেহেতু এটি হারাম তাই আপনার ইচ্ছা শক্তি দৃঢ় রাখবেন, তাহলেই হারাম থেকে বাঁচতে *الله سبحانه و تعالى'*র পক্ষ হতেও সাহায্য পাবেন *ان شاء الله..*

*ইসলামের দৃষ্টিকোণে হস্তমৈথুনঃ-*
আল্লাহ তা’আলার দেয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্য যে ব্যক্তি তার স্বীয় লজ্জাস্থানের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে- যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ *"সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে-সন্বন্ধে।" -(আল- কুরআন, ৩৬:৬৫)* রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ *"যে ব্যক্তি স্বীয় জিহ্বা এবং লজ্জাস্থানের জামিন হবে আমি তার জাহান্নামের জন্যে জামিন হবো।" -(বুখারি, মিশকাত)* উক্ত হাদিস থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, মানব দেহের এ দু’টো অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপজ্জনক। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করাতে শয়তানের জন্য খুব সুবিধা। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বেশীরভাগ পাপ হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তি এ দু’টো অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক অবস্থায় লজ্জাস্থানের হেফাজত করে অবৈধ কোন প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে। অন্যত্র সহীহ হাদীস থেকে আরও প্রমানিত হয়ঃ *একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন, "হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) সিয়াম (রোযা) রাখা।" -(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)*
*"মু’মিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করে রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে, এ নীতি তাদের জন্যে অতিশয় পবিত্রতাময়। আর তারা যা কিছু করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ মাত্রায় অবহিত।" (সূরা আন-নূর ৩১)*
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এমনই গোপনীয় পাপ যা মানুষ চোরের মত চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে। *রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ "উত্তম চরিত্র হল পু্ন্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ।" -(মুসলিম, মিশকাত)* অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে। লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে *রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ "লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে।" – [বুখারী ও মুসলিমঃ ৫০৬৬]* মুসলিমের এক বর্ণনায় এরূপ রয়েছেঃ *"লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।"*

*_جزاكم الله خيرا في الدنيا والآخرة..!_*

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...