সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মসজিদে ডুকে দুই রাকাত নামায পড়া

মসজিদে ডুকে দুই রাকাত নামায পড়া:-

আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণীত, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন বসার আগে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। (তিরমিযি, ১ম খন্ড, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সালাতের সময়সূচি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১২৩, হাদিস নং ৩১৬)
_______________________
আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণীত, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন বসার আগে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। দু’রাকআত সালাত আদায় করার পর বসবে নতুবা প্রয়োজন সেরে বের হয়ে যাবে। (আবু দাউদ, ১ম খন্ড, সালাত অধ্যায়, হাদিস নং ৪৬৭)
_______________________
এই হাদিসটি প্রমান করে- কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে বসার পূর্বেই আল্লাহ্‌র ঘরের সম্মানার্থে দু’রাকআত সালাত আদায় করবে।
_______________________
আব্দুল্লাহ ইবনু আবু সালামাহ (রঃ) সুত্রে বর্ণীত, আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণীত, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন বসার আগে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। (সহিহ মুসলিম, ২য় খন্ড, মুসাফিরের সালাত ও ক্বসর অধ্যায়, হাদিস নং ১৫৩৯)
_______________________
আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ (রঃ) সুত্রে বর্ণীত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাহাবী আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদিন আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ (সাঃ) লোকজনের মাঝে বসে আছেন। সুতরাং আমিও গিয়ে সেখানে বসে পড়লাম, এটা দেখে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন- সর্বপ্রথম দু’রাকআত সালাত আদায় করতে তোমার কি অসুবিধা ছিল? আমি বললাম- হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ)! আমি দেখলাম আপনি বসে আছেন (আলোচনা করছেন)। লোকজনও বসে আছে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নির্দেশ দিলেন- তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাকআত সালাত আদায় না করে বসবে না।
(সহিহ মুসলিম, ২য় খন্ড, মুসাফিরের সালাত ও ক্বসর অধ্যায়, হাদিস নং ১৫৪০)
_______________________
এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, মসজিদে গিয়ে আগে ২ রাকআত সালাত আদায় করতে হবে পরে বসতে হবে। কিন্তু অনেককে দেখা যায় মসজিদে প্রবেশ করে আগে একটু বসে তারপর ২ রাকআত সালাত আদায় করে। এটি ঠিক নয়। এই হাদিসে নবী (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন মসজিদে প্রবেশ করেই সর্বপ্রথম দু’রাকআত সালাত আদায় করতে।
_______________________
আবু কাতাদাহ সালামী (রাঃ) হতে বর্ণীত, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন বসার পূর্বে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। (সহিহ বুখারী, ১ম খন্ড, কিতাবুস স্বালাত, হাদিস নং ৪৪৪)
_______________________
এই হাদিসটি চিন্তা করে দেখুন, তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাতটি কত গুরুত্বপূর্ণ !!
_______________________
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, কোন এক জুম্মার দিনে নাবী (সাঃ) লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে (খুৎবাহ শোনার জন্য বসলেন)। তিনি জিজ্ঞাস করলেন হে অমুক! তুমি কি স্বালাত আদায় করেছো? সে বলল- না! আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বললেন- উঠ! দু’রাকআত সালাত আদায় করে নাও। (সহিহ বুখারী, ২য় খন্ড, কিতাবুল জু’মুয়াহ, হাদিস নং ৯৩০)
_______________________
আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) খুৎবাহ থামিয়ে ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করলেন যে আগে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নিতে। কিন্তু আমাদের দেশের লোকেরা খোঁড়া যুক্তি দেখায় যে, খুৎবাহ শোনা ওয়াজিব তাই খুৎবাহ চলাকালীন সময় সালাত আদায় করা যাবে না। অনেক মসজিদে দেখা যায় খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে লালবাতি জ্বালিয়ে রাখে।
_______________________
মসজিদে লালবাতি জ্বালানোর অধিকার কারো নেই।
মানুষকে সালাত থেকে বাঁধা দেয়ার জন্য লালবাতি জ্বালায় যারা তাদের কবরে লালবাতি জ্বলবে ইনশাআল্লাহ!!!
_______________________
মসজিদের তাহিয়্যাহ/উপঢৌকন স্বরূপ তাহিয়্যাতুল মসজিদ ২ রাকআত সালাত সর্বাবস্থায় পড়তে হবে। অর্থাৎ এই সালাতের মূল কথা মসজিদে ঢুকেই সরাসরি বসা যাবে না, এটি মসজিদের আদবের খেলাফ। যদি মসজিদে ঢুকে দেখেন জামাআত দাড়িয়ে গেছে তবে জামাআত শরীক হলেই মসজিদের তাহিয়্যাহ হয়ে গেল। কোন প্রকার সালাত আদায় না করে বসা হল না। যে কোন সালাত আদায় করলেই তাহিয়্যাহ হয়ে যায়, কিন্তু মসজিদে প্রবেশ করেই বসা যাবে না।
_______________________
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন- আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে যাবে, কিন্তু সে নয় যে অস্বীকার করবে।
জিজ্ঞাসা করা হল- হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) ! (জান্নাতে যেতে আবার) কে অস্বীকার করবে?
_______________________
তিনি বললেন- যে আমার অনুসরণ করবে সে জান্নাতে যাবে এবং যে আমার অবাধ্যতা করবে সে জান্নাতে যেতে অস্বীকার করবে। (সহিহ বুখারীঃ ৭২৮০, মুসলিমঃ ১৮৩৫)
_______________________

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন

♪♪তিন শ্রেণীর লোক দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। যথাঃ (ক) শহীদ। (খ) আলেম এবং (গ) দানবীর। ★হাদিস: তিন শ্রেণীর লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবেঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নবীজী বলেন:কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, শাহাদত বরণকারী একজন লোক, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব যাবতীয় নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে সে সব নেয়ামতকে চিনে বা মেনে নেবে। তখন তাকে বলা হবে: এসব নেয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে তুমি কি কি আমল করেছ? বলবে: আপনার তরে লড়াই-জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়ে গিয়েছি। বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি লড়াই করেছ এজন্য যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। তাতো বলা হয়েছে। অত:পর তার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে এবং তাকে চেহারার উপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে (যাওয়া হবে এবং) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। →দ্বিতীয় পর্যায়ে, আলেম ব্যক্তি যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞাত করা হবে। সে সব নেয়ামত...

ভ্রান্ত আলেম

ভ্রান্ত আলেম ভ্রান্ত আলেমঃ- নবি(স) বলেন,আমি আমার উম্মতের একটি বিষয়কে দজ্জালে চেয়ে ও বেশী ভয় করি। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সেটা কি? তিনি বল্লেন,বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট আলেম(সহি মুসলিম:৬,৭ মুসনাদে আহমদ:২১৬২১,২১৬২২ তাবরানী:৭৬৫৩)। আলেমগন(ভাল) ইসলামের পাহরাদার বল্লেও, দুর্ভাগ্য যে বর্তমানে কিছু লোক (পীর নিয়ন্ত্রিত) মাদ্রাসায় সাজেশান পড়ে আলেম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কুরআন সম্পূর্ণ পড়ে না,বিধায় আমাদের সমাজে পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত আলেম বেড়ে গেছে। তাদের অজ্ঞতায় সৃজিত জাল-যঈফ হাদিসের জন্য সাধারণ মুসলিম শির্ক ও বিদাআত চিনতে পারছেন না। এরাই বর্তমানে বলে বেড়ায় "ধর্ম বুঝা কঠিন, মাদ্রাসা না পড়লে কোন ভাবেই ধর্ম জানা যায় না তারচে তারা যা বলে তা অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে"। প্রকৃত পক্ষে- এটি সহজ ও দলিল ভিত্তিক ধর্ম।এটা মানতে কুরআন ও সুন্নাহ(in to to) অনুসরণ করতে হয়। কোন পীর,ঈমাম কিংবা আলেম এর স্বপ্ন,ইচ্ছা,গনতন্ত্র, ভাল লাগা, না লাগার উপর ইসলাম নির্ভর করে না। আল্লাহ্‌ বলেন, আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করা হারাম(সুরা নাহল:১৬/৪৩,সুর আ"রাফ:৭/৩, সুরা আহযাব:৩৩/৬৭) [Mahbubul ...

হকপন্থী দল কারা ?”

হকপন্থী দল কারা ?” সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, "চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।” (সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (ম...